
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সম্প্রতি দেশের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবিত অবস্থার শেষ ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিটি ২৮ ফেব্রুয়ারি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কয়েক মুহূর্ত আগে তোলা হয়েছিল।
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি তোলা হয়েছিল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে, যা বোমাবর্ষণের প্রায় ২০ মিনিট আগে। একই দিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিমানবাহিনী হামলা শুরু করে।
ছবিতে দেখা যায় খামেনি একটি কক্ষে সোফায় বসে বই পড়ছেন। তার পাশে ছোট একটি টেবিলে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিহত কমান্ডার কাশেম সোলায়মানির ফ্রেমবন্দি ছবি। টেবিলের পাশে একটি শেলফে রাখা হয়েছে দুটি ফ্রেমবন্দি ছবি, যার মধ্যে একজন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ছবিতে খামেনি যে বইটি পড়ছেন তা পবিত্র কোরান।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ১৯৮৯ সালের মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী।
প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা খামেনি দেশকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন।
গত দুই দশকে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘ বিরোধ চলে এসেছে। এই বিষয় নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিনের সংলাপ হয়, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালায়। অভিযানের প্রথম দিনেই খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৯ বছর।
সূত্র: জিও টিভি