
অধিকৃত জেরুজালেমের কাছে ইসরায়েলের একটি স্পর্শকাতর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা’ বলে দাবি করলেও দেশটির একাধিক গণমাধ্যম সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে বাইত শিমেশ এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রতিষ্ঠান ‘তোমার’-এর মালিকানাধীন ওই স্থাপনাটি দেশটির উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক ও প্রশাসনিক সূত্র দাবি করে, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত একটি পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ। তবে সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছে না দেশটির নিজস্ব সংবাদমাধ্যমগুলো।
একটি গণমাধ্যম জানায়, বিস্ফোরণকে পরিকল্পিত পরীক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও ঘটনাস্থলে আসলে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আরেকটি সম্প্রচারমাধ্যম সরাসরি প্রশ্ন তোলে, এটি আদৌ নিয়ন্ত্রিত কোনো পরীক্ষা ছিল কি না। তাদের ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের কোনো তথ্য গোপন করছে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দেশটির আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা জানিয়েছে, সামরিক বা অস্ত্রসংক্রান্ত বড় ধরনের পরীক্ষা চালানোর আগে সাধারণত নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু বাইত শিমেশের এই ঘটনায় আগাম কোনো সতর্কবার্তা ছিল না। এ কারণে বিস্ফোরণটিকে স্বাভাবিক পরীক্ষা হিসেবে দেখতে রাজি নন অনেক বিশ্লেষকও।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় দুর্ঘটনা, কারিগরি ত্রুটি বা অন্তর্ঘাতমূলক কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য দুর্বলতা আড়াল করতেই সরকার নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ব্যাখ্যা সামনে আনছে বলে আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঘটনাটি নিয়ে নজর তৈরি হয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো ঘিরে যেকোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।