
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মরণে পালিত এই দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশেও ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ঈদ মোবারক! মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা। আশা করি, এই পবিত্র উপলক্ষ আমাদের চারপাশে আরও বেশি ঐক্য ও আনন্দ বয়ে আনবে। মানুষের প্রতি সদয় হওয়া এবং সমাজের জন্য কিছু করার চেতনা যেন সবসময় আমাদের পথ দেখায়।’
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইসলামি প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর প্রতি সালাম ও দরুদ পাঠের পাশাপাশি দেশ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। সংবাদপত্রেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব তাঁর জন্মের আগেই ইন্তেকাল করেন। মা আমিনা বিনতে ওয়াহাবের ঘরে জন্ম নেওয়া মহানবী (সা.) শৈশব থেকেই সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সে সময় আরব সমাজে নানা ধরনের অনাচার ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সংঘাত ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। মানবসমাজ ও বিশ্বজগতের রহস্য নিয়ে চিন্তায় যুবক বয়সে মহানবী (সা.) জনপদ থেকে দূরে পাহাড়ের নির্জন হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ৪০ বছর বয়সে সেখানেই তাঁর ওপর প্রথম আল্লাহর ওহি নাজিল হয়।
ওহি নাজিলের পর তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত, সত্য, ন্যায় ও সাম্যের পথে আহ্বান জানান। ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনে ইসলামের বাণী প্রচারের পাশাপাশি তিনি ন্যায় ও মানবিকতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর শিক্ষার অন্যতম প্রধান দিক ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা।