
পুষ্টিকর খাবারের আশায় স্কুলে এসে নষ্ট ও অখাদ্য খাবার হাতে পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে, যা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ২৯ নম্বর সাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি কলা সরবরাহ করেন। কার্টুন খুলে বিতরণের সময় দেখা যায়, অধিকাংশ কলাই পচা, পোকাধরা ও অতিরিক্ত পাকা। অনেক কলায় নষ্টের স্পষ্ট চিহ্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা তা খেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চিৎকার শুরু করে। পরে শিক্ষকরা কলাগুলো ফেরত দিলেও প্রতিনিধি সেগুলো রেখে চলে যান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন রুটি, বিস্কুট, ডিম, কলা ও দুধ—এই পাঁচ উপাদানের মধ্য থেকে অন্তত দুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে তালিকা অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ওই দিন রুটি ও ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে নষ্ট কলা আনা হয়, যা শিক্ষার্থীরা খেতে পারেনি।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবেই নানা অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। কখনও আগের দিন সেদ্ধ করা ডিম দেওয়া হয়, কখনও কাঁচা বা অতিরিক্ত পাকা কলা সরবরাহ করা হয়, যা খাওয়ার অনুপযোগী। আবার অনেক সময় দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে খাবার পৌঁছায়, ফলে দুপুর ১২টায় ছুটি হয়ে যাওয়া প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা খাবার থেকে বঞ্চিত হয়।
এ ধরনের অনিয়ম নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, গত ১৭ নভেম্বর থেকে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচি’ চালু হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের দেড়শ প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ১৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৬ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থী সুবিধা পাচ্ছে।
খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার মো. মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ বলেন, ‘আগেও পঁচা রুটি ও কলা সরবরাহের অভিযোগে রুটি দেওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। পরে কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও আবার অনিয়ম শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মানসম্মত খাবার না পেলে তা গ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।’