
শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)। এআইকে কেন্দ্র করে একাধিক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক ও শিল্পখাতের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন ইউল্যাবে নবগঠিত ‘এআই ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড ডিজিটাল লার্নিং সাবকমিটির’ প্রথম নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগ ও প্রশাসনিক দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই সাবকমিটির লক্ষ্য হলো এআই–সম্পর্কিত নীতিমালা তৈরি, এআই সাক্ষরতা বৃদ্ধি, আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি উন্নয়ন এবং সামগ্রিক একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউল্যাবের উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিকে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করা।
একই দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মবাজার উপযোগী দক্ষতা তৈরিতে আয়োজন করা হয় ‘এআই বুটক্যাম্প’। ইউল্যাবের ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস অফিস এবং সুপারঅ্যানোটেট এআই ইনক.-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেখানে তারা এআই শিল্পের দ্রুত পরিবর্তন, সম্ভাব্য চাকরির ক্ষেত্র এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পান।
বুটক্যাম্প শেষে একটি অন-সাইট মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে ৭০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। তাদের সুপারঅ্যানোটেট এআই ইনক.-এর সঙ্গে প্রকল্পভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের এআই–সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়নে আলাদা উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। ইউল্যাবের সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং এবং অফিস অব ফ্যাকাল্টি রিসার্চ যৌথভাবে চার সপ্তাহব্যাপী ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন হায়ার এডুকেশন’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। উদ্বোধনী সেশনে ৩০ জনের বেশি শিক্ষক অংশ নেন।
সেখানে ‘টিচিং উইথ এআই: পেডাগজিক্যাল শিফটস, পসিবিলিটিজ, অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক আলোচনায় এআই কীভাবে শিক্ষা, মূল্যায়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততায় পরিবর্তন আনছে তা তুলে ধরা হয়।
এছাড়া সৃজনশীল ও যোগাযোগভিত্তিক ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারণে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ কর্মশালা। এতে দেখানো হয় কীভাবে এআই ব্যবহার করে স্ক্রিপ্ট তৈরি, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কনটেন্ট অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে পডকাস্ট নির্মাণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা যায়।
সামগ্রিকভাবে এসব কর্মসূচি থেকে স্পষ্ট যে, ইউল্যাব এআইকে শুধু প্রযুক্তিগত প্রবণতা হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও কর্মসংস্থানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল নিয়েছে।