
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলার একটি নিভৃত গ্রামে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি ওই পরিবারের নারী ও অবোধ শিশুরাও, যা এলাকায় গভীর আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
রক্তাক্ত বাড়ি ও লাশের মিছিল
শনিবার সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এই ভয়াবহ ঘটনাটি জনসম্মুখে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে প্রবাসফেরত মনিরের বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ভেতরে গিয়ে তাঁরা রক্তভেজা অবস্থায় সবার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ভিড় জমান। পরে পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরিচয় ও পুলিশি ভাষ্য
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম ঘটনাস্থল থেকে জানান, নিহতদের মধ্যে ওই বাড়ির মালিক প্রবাসী মনিরের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। তবে নিহত বাকি তিনজনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান:
“নিহতদের মধ্যে প্রবাসী মনিরের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। তবে নিহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।”
তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার (৮ মে) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এটি ডাকাতি নাকি কোনো পুরনো শত্রুতার জের, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে এভাবে নির্মূল করার ঘটনায় কাপাসিয়াজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।