
জমি বিক্রির বিরোধকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে মহাসড়ক। বিবদমান পক্ষগুলোকে শান্ত করতে গিয়ে ইটের আঘাত ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার কবলে পড়ে আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে, যেখানে নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ জখম হয়েছেন।
বিরোধের সূত্রপাত ও সংঘর্ষের ভয়াবহতা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমি বেচাকেনা নিয়ে জাউয়াবাজার এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে গত তিন দিন ধরেই তীব্র উত্তেজনা চলছিল। সেই রেষারেষির জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের ওপরই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা, যার ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ রুটে যান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে যায়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে আহত সংসদ সদস্য
ঠিক সেই মুহূর্তেই সিলেট থেকে ব্যক্তিগত সফর শেষ করে সুনামগঞ্জ ফিরছিলেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। মহাসড়কে রণক্ষেত্র দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিবদমান পক্ষগুলোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে শান্ত করার প্রচেষ্টাকালে তিনি হাত ও পায়ে চোট পান। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নিজের আহত হওয়া প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন:
"সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ আসার পথে সংঘর্ষ দেখে থামানোর চেষ্টা করি। ওই সময় পায়ে ও হাতে আঘাত লেগেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
যৌথ বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
সংঘর্ষের খবর পেয়েই জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান তালুকদারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশকে সহায়তা করতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বর্তমান অবস্থা ও প্রশাসনের বার্তা
ছাতক থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুনরায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে। আহত অন্যদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে শান্ত থাকার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সংবাদ ও পুলিশ বিভাগ।