
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে নিজেই আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। শুক্রবার (৮ মে) রাতের অন্ধকারে জাউয়াবাজার এলাকায় টর্চের আলো জ্বেলে চলা সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করতে গেলে ইটপাটকেলের আঘাতে তিনি আহত হন।
স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে খিদ্রাকাপন ও জাউয়াবাজার গ্রামের বাসিন্দারা বাজার এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
তবে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে গাড়ির কাচ ভেঙে গিয়ে তাঁর পা ও হাতে আঘাত লাগে। পরে তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকরা তাঁর পা থেকে কাচের টুকরো বের করেন এবং এক্স-রে করার পরামর্শ দেন।
সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তাঁর এক সহকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাউয়াবাজার এলাকার খিদ্রাকাপন গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়ার কাছে ২০ লাখ টাকা পাওনা ছিল কোনাপাড়ার মোহাম্মদ আলীর। টাকা না পেয়ে দু’দিন আগে আখলুছ মিয়াকে গালিগালাজ করা হয়, যা নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এরপর আখলুছ মিয়ার লোকজন মোহাম্মদ আলীকে মারধর করে এবং পরবর্তীতে পাল্টা সংঘর্ষ শুরু হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়ে চলা এই সংঘর্ষে সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জায়গা কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল ব্যবহার করেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।