
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পদ্ধতি বা ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন মেথলজি অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর নেট ইকুইটি ঋণাত্মক হওয়ায় আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সেগুলোর শেয়ারের মূল্য শূন্য হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারের দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ায় সেগুলোর শেয়ারকে ‘শূন্য মূল্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে সমালোচনার মুখে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সে বিষয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় বর্তমান কমিশন শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কী ভূমিকা নেবে, এমন প্রশ্নের জবাব দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
মাসুদ খান বলেন, ‘ওই প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার আগে আমি একটা ফান্ডামেন্টাল প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই। হোয়াট ইজ দ্য ভ্যালু অব দিস শেয়ার? ওই পাঁচটি ব্যাংকের নেগেটিভ নিট ইকুইটি ছিল কিনা? উত্তর ছিল, ছিল। অর্থাৎ লস মেকিংয়ে নেগেটিভ ইকুইটি ছিল। ইন দিস কেসেস ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন মেথডোলজি কী বলছে? যদি কোনো কোম্পানি লস মেকিং হয়, আমরা শেয়ারকে মূল্যায়ন করব নেট ওয়ার্থের ভিত্তিতে, অন্য দিকে তাকাব না। তাহলে নেট ওয়ার্থ যদি নেগেটিভ হয়, ভ্যালুয়েশন কী হবে? উত্তরটা হবে জিরো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি (বিনিয়োগকারী) তো জেনে-শুনে ইনভেস্ট করছেন। আজকে যদি ওই ব্যাংকগুলো খোলাও থাকত, তাহলে হয়তো ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা দিয়ে লেনদেন করতে হতো। এর বেশি হয়তো আপনি পেতেন না। আপনি হয়তো ২০ টাকা বা ১৫ টাকায় কিনেছেন। কিন্তু ওভার দ্য ইয়ারস এগুলোর পারফরম্যান্স ডিউ হয়ে গেছে। ফলে এগুলো পাঁচ টাকা, এক টাকা, দুই টাকা হয়ে গেছে। হয়তো আপনি সেটাই পেতেন। কিন্তু সেটাও পাওয়ার কথা নয়। কারণ এগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটি ছিল।’
অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের পথে এগোচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান তালিকাচ্যুত বা বন্ধ হলে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা হবে।
জবাবে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘একই উত্তরটা আপনি পাবেন। ওইসব প্রতিষ্ঠানের কী অবস্থা আপনি বলেন তো? এগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটির পরিমাণ হিসাবের বাইরে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, এসব কোম্পানির নেট ওয়ার্থ কি আছে? এগুলো জিরোর থেকেও অনেক কম।’