
শিক্ষকের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে আরবি পড়তে গিয়ে এক চরম পাশবিকতার শিকার হতে বসেছিল ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থী। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর ছলচাতুরি করে নিজের ঘরে পড়া ওই অবুঝ শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসানুর (২২) নামের এক প্রাইভেট ধর্মীয় শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর আদালতের আদেশে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ধৃত গৃহশিক্ষক ইসানুর সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার অন্তর্গত মাছিমপুর গ্রামের আব্দুল হাদিসের সন্তান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জের ডহরগাঁও গ্রামের মোজাম্মেল হকের মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন শিক্ষক ইসানুর। ওই বাসারই একটি নির্দিষ্ট কক্ষে তিনি স্থানীয় এলাকার বেশ কয়েকজন শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে প্রাইভেট হিসেবে আরবি শিক্ষা দিতেন।
প্রতিদিনের মতো আজ সোমবার সকালেও অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে ওই শিশু কন্যাটিও শিক্ষকের ঘরে আরবি পড়তে গিয়েছিল। একপর্যায়ে পড়ার ফাঁকে ওজু শেখানোর অজুহাত দেখিয়ে অভিযুক্ত ইসানুর শিশুটিকে কৌশলে বাথরুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
ওই সময় ভেতরে থাকা শিশুটির তীব্র আর্তচিৎকার ও কান্না শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং কক্ষের ভেতর থেকে ইসানুরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে ওঠা জনতা লম্পট শিক্ষককে উত্তম-মধ্যম বা গণপিটুনি দিয়ে ঘরের খুঁটির সাথে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
নিন্দনীয় এই পৈশাচিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসানুরকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রূপগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ‘শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার প্রাইভেট শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'