
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় এবং জাতীয় সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। তাই সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।
শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন ও বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ জাতীয় সংসদের পরিবর্তে রাজপথে সমস্যার সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অথচ সরকার জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধান সংসদের মাধ্যমেই করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চাই, তখন দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।’
সরকার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে, এখন দেশ গঠনের সময়।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা সৃষ্টি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
আলোকচিত্রকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে সেই সংগ্রামের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এ প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো জনগণের ঐক্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মব কালচার, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে এগুলো প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালাননি।
অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।