
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং সচিব কমিটির সভা শেষ হয়েছে। শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক দফা মতবিনিময়, পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই শেষে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র তাদের নিজস্ব আইন ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা করছে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে।
সাইবার আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করতে চায়, যেখানে একদিকে সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত মানহানি, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাবে।
তিনি বলেন, সরকার কোনো তড়িঘড়ি করে সাইবার আইন করতে চায় না। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার ভিত্তিতেই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার মানুষের কণ্ঠরোধ বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায় না। একই সঙ্গে নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা ও সুনাম রক্ষায় কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “সময়ই এ বিষয়ে উত্তর দেবে।”