
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে কালোজাদু চর্চার সন্দেহে নিজের মাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, কয়েক বছর আগে গ্রামে ঘটে যাওয়া একাধিক মৃত্যুর জন্য মাকে দায়ী মনে করতেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় তাঁকে আটক করা হয়েছে।
অভিযুক্তের নাম কারে দুর্গেশ। পেশায় তিনি অটোরিকশাচালক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের অটোরিকশা থেকে ডিজেল নিয়ে মায়ের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এতে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁর ৪০ বছর বয়সী মা কারে সায়াম্মা।
গ্রামে একাধিক মৃত্যুর জন্য মাকে সন্দেহ করতেন ছেলে
পুলিশ জানিয়েছে, সায়াম্মা কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর ছেলে দুর্গেশের অভিযোগ ছিল, মা অলৌকিক শক্তির চর্চা করতেন এবং কালোজাদুর মাধ্যমে কয়েক বছর আগে গ্রামে ঘটে যাওয়া একাধিক মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন।
ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে হায়দরাবাদ থেকে নিজের গ্রামে ফিরেছিলেন দুর্গেশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদকাসক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি মদ্যপ অবস্থায় এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে তাঁর এমন আচরণের পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
কালোজাদুর অভিযোগের পক্ষে মেলেনি প্রমাণ
তদন্তে এখন পর্যন্ত নিহত সায়াম্মা কালোজাদু কিংবা কোনো ধরনের তন্ত্রমন্ত্রের চর্চায় জড়িত ছিলেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আল্লাদুর্গ সার্কেলের পুলিশ পরিদর্শক এম রেণুকা বলেন, “আমাদের তদন্তে অলৌকিক চর্চার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের কেউই বলেননি যে ওই নারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।”
পুলিশের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মায়ের বিরুদ্ধে ছেলের আনা অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সমর্থনযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত, ময়নাতদন্তে মরদেহ
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আল্লাদুর্গ সার্কেলের পুলিশ পরিদর্শক এম রেণুকা এবং টেকমল থানার উপপরিদর্শক অরবিন্দ কুমার ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
নিহত সায়াম্মার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জোগিপেটের একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিস্থিতি, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় দুর্গেশকে আটক করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি