
কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রেমঘটিত ঘটনার জেরে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে উদ্ধার করার পর বেধড়ক পেটানোর অভিযোগে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (৩১ মে) চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও মারধরের সূত্রপাত
জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক তরুণের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ওই কিশোরীকে ‘অপহরণ করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে উদ্ধার করতে যায় চকরিয়া থানার পুলিশ। পুলিশ ওই কিশোরীকে শনাক্ত করে চলে আসার জন্য বললে, সে তার প্রেমিকের কাছ থেকে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। কথা না শুনে উল্টো প্রেমিককে জড়িয়ে ধরায় কোনো নারী পুলিশ সদস্যের সহায়তা না নিয়ে এসআই মো. আরকানুল ইসলাম নিজেই মোটা লাঠি দিয়ে ভিকটিম কিশোরীকে প্রহার শুরু করেন। এ সময় মারধরের শিকার হয়ে তার প্রেমিকও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে এই মারধরের ঘটনা ঘটে এবং রোববার সকাল থেকে ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার পটভূমি ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার এক কিশোরীর বাবা শনিবার চকরিয়া থানায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই কিশোরী পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে নিখোঁজ ছিল। মামলায় কিশোরীর বাবা ফাঁসিয়াখালী এলাকার নুরুল আমিন নামের এক যুবককে আসামি করেন। অভিযোগ পেয়ে এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ফাঁসিয়াখালী এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে নুরুল আমিন ও কিশোরী— দুজনকে মারধর করার ভিডিও সামনে আসার পর স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের গ্লাস ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বর্তমান অবস্থা
পরবর্তীতে চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহত নুরুল আমিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাঁর স্বজনেরা দাবি করেছেন।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন জানান, একজন অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছোট ঝামেলা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে এসআই আরকানুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কিশোরী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে অপহরণের অভিযোগে চকরিয়া থানায় নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।