
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে ঘটনায় দুই গ্রুপের ৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে সভাপতি ওমর ফারুক মানিক গ্রুপের শাকিল ও প্রতাফ নামের দুই কর্মী আহত হয়। এছাড়াও পদবঞ্চিত সিনিয়র সহ সভাপতি ওমর ফারুক গ্রুপের তালহা জোবায়ের, রায়হান ও পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতা বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান।
জানা গেছে, গতকাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ওমর ফারুক মানিককে সভাপতি ও ফাতিন ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকে সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক ও সহযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। গতকাল রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের নানান ধরনের মন্তব্য করতে দেখা গেছে। সকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচিরে ডাক দেয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের কর্মীরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল করার একপর্যায়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ লাগে।
সভাপতি প্রার্থী ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘পদবঞ্চিতরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিল। তারা বিক্ষোভকারীদের উপর অযথা হামলা করেছে। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। আমরা এসে দেখি আমাদের ছোট ভাইদের উপর হামলা করা হচ্ছে আমরা এগিয়ে গেলে আমাদের উপর হামলা হয়। ছাত্রদল করে অন্যায় করিনি। অযোগ্যদের নেতৃত্বে এই কমিটি আমরা মানিনা। ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্যই এই কমিটি।’
নতুন কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিক বলেন, ‘আমরা কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অবস্থান করছিলাম। এসময় কয়েকজন ছাত্র বিক্ষোভ মিছিল করে। আমার সাথে থাকা কয়েকজন তাদেরকে বলেন আযান দিচ্ছে বন্ধ করো। বন্ধ করতে বলায় তারা ভুল বুঝে আমাদের ওপর হামলা করে। এসময় আমার দুইজন কর্মী আহত হয়েছে।’
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমরা কলেজে অবস্থান করে পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের নিবৃত্ত করি। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। কেন্দ্র থেকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার কথা জানিয়েছে।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার প্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান, ‘ঘটনা শোনার পর আমরা কলেজে অবস্থান করি। বর্তমানে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় কোন অভিযোগ এখনো পর্যন্ত দায়ের হয়নি।’