
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী ভারতেও। নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থার প্রবল স্রোতে একের পর এক মরদেহ ভেসে আসছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। কুশীনগর জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী।
কুশীনগরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বন্দিতা শ্রীবাস্তব জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলো প্রোটোকল অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ছয়টি মরদেহ কুশীনগর মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি সাতটি পাঠানো হয়েছে গোরক্ষপুরের এইমস হাসপাতালে।
মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলো নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নদীপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মানুষের মরদেহের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণী ও পশু-পাখির মৃতদেহও নদীতে ভেসে আসছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় পৃথক অভিযানে নদী থেকে চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ। ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো নেপাল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার জানান, মরদেহ হস্তান্তরের আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে পরিচয় শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য এসব ডিএনএ তথ্য নেপাল প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।
নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এবং নদীর প্রবল স্রোতে আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কায় মহারাজগঞ্জে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন।
নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নদীপথেও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চাইলে এটাকে আরও নিউজপোর্টাল স্টাইলে করব, নাকি একটু বেশি মানবিক আবহে ফিচারধর্মী করব?