
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির পুলিশের সর্বশেষ হিসাবে, বুধবার থেকে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৯৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। খবর বিবিসির।
রোববার স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭৯৪ জন। তবে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৭৮১ জন এবং নিখোঁজ ২ হাজার ৫০২ জন।
বন্যায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে নেপালের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে পুরোপুরি সামঞ্জস্য নেই।
এদিকে বন্যায় নেপালের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটকও নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যার কারণে অনেক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বিভিন্ন দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ৯০।
নেপাল পুলিশের হিসাবে, ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণে থাকা ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটির ৪১ জন নাগরিক এখনো নিখোঁজ। নেপাল পুলিশের হিসাবে নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জন। পাশাপাশি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে আরও ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কতজন নেপালের নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন, তা নিশ্চিত নয়।
কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৩০ জন নাগরিকেরও এখনো সন্ধান মেলেনি। দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটক নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে।
বুধবার হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল স্রোতে বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন।
দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলোর তল্লাশি এখনো চলছে। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।