
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন (৫৫) নিহতের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। একই অভিযানে তার সহযোগী সেড্রিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও থানার পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
র্যাব-২ জানায়, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর কাছে ছিল। নিহত রনজিনার স্বামী আব্দুল মতিনও ঘটনাস্থলে থাকা মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করেছেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন চিকিৎসার জন্য স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় আসছিলেন। তারা রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামীয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।
রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী রনজিনার ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রনজিনার স্বামী আব্দুল মতিন ২৯ আগস্ট শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার পনি গাজী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও চাঁদপুরে তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ডাকাতির প্রস্তুতিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাব-২।