
বিদেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ও বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক পড়ে যায়। এর মধ্যে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তাদের দলের কোচ পরিচয়ে বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতাও রয়েছে। এই রেওয়াজ বন্ধে ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যিনি সারা বছর খেলোয়াড়দের কঠোরভাবে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাকেই কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোচের দায়িত্ব নিয়ে যেতে হবে।’
রোববার (২৩ আগস্ট) বিভিন্ন ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। শুটিং ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাকে ক্যাম্প ডিরেক্টর হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও তালিকায় তাকে পিস্তল কোচ হিসেবে দেখানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকদের হঠাৎ করে কোচ হিসেবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাকে সম্পূর্ণ অশোভনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো অফিশিয়ালকে কোচ বানিয়ে পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন। এ সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো প্রতিযোগিতায় শুধু অংশগ্রহণই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সেরা পারফর্মারদের এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তারা বাদ না পড়েন। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য স্থায়ী কোচ নিয়োগের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি, মোট খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালদের সংখ্যা এবং তাদের ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে ফেডারেশনগুলোর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের স্টেডিয়ামপাড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও জোর দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও পরিবেশের আশানুরূপ পরিবর্তন এখনও ঘটেনি। এমনকি ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পরিমণ্ডলের কিছু ব্যক্তির এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকাও দুর্ভাগ্যজনক।’