
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন বার্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তাঁর কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।
এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার মোবাইলটি হারিয়ে গেছে গত ফেব্রুয়ারিতে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। এসব অপপ্রচার শুরু হওয়ার পরে আমার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছি। এই বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি। ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়মের বাইরে যেতে বাধা দিয়েছি। মূলত ঈর্ষা ও শত্রুতা থেকেই আমার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।’
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ঘটনার দায় এড়াতেই মোবাইল হারানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগ ওঠার আগ পর্যন্ত শিক্ষক রেজাউল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রেখেছেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সত্য ঘটনা এড়ানোর জন্য তিনি মোবাইল হারানোর কথা বলেন, যা নিন্দনীয়। তিনি আমাদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছেন। ফেসবুকে কানেক্ট থেকেছেন। অভিযোগ ওঠার পরেই ফেসবুক ডিলেট করেন। এর আগে সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণে ছিলো।’
তারা আরও বলেন, ‘এমন শিক্ষকের কাছ থেকে আমরা আর শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইনা। প্রতিবারই একেক জন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন অশালীন কথাবার্তা ও হেনস্তার শিকার হন এখানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবারই বিচারের নামে প্রহসন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। বিচারের নামে সাময়িক বহিষ্কার করে অবকাশে পাঠানোর কোনো মানে হয় না। আমরা শিক্ষক রেজাউল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাই।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষকের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নবিষয়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো বার্তার বিভিন্ন প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তারা ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানান।
এর আগে এক শিক্ষার্থীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজনের কাছেও একই ধরনের বার্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।