
গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তির পথ খুলতে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ভারতীয় প্রতিনিধিদের নাম চেয়ে পাঠিয়েছে ঢাকা। আগামী ১২ ডিসেম্বর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য সরকারের।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ করছে। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৭৭ সালে পাঁচ বছরের জন্য করা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ থাকলেও ১৯৯৬ সালে চুক্তি নবায়নের সময় তা বাদ দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের অবস্থানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আলোচনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিক নীতিমালাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি জানান, পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে। ভারতের প্রতিনিধিদের নাম পাওয়া গেলেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে। এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
এদিকে পদ্মা ব্যারাজের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান করার আশা প্রকাশ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
পদ্মা ও তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি চাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, নদী দুটির তীরবর্তী মানুষের স্বার্থই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।