
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) সংলগ্ন মাহাতাব টাওয়ার নামের একটি ছাত্রাবাসে গাঁজা সেবনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সেখানে অভিযান চালায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিকেল ৩টার দিকে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাহাতাব টাওয়ারের একটি কক্ষে নিয়মিত মাদকসেবনের আসর বসত বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার ভবনটির অষ্টম তলার ‘বি’ ফ্ল্যাটে গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়ামের কক্ষে ওই আসর বসানো হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম, অর্থনীতি বিভাগের মিরাজ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের আকরাম এবং বাংলা বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সিয়াম, ইমন, শ্যামলসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।
অভিযোগ রয়েছে, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়ামের একক কক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত গাঁজা সেবনের আসর বসত। কক্ষটি এককভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় বিষয়টি এতদিন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যায়।
অভিযান চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করেই তীব্র গাঁজার গন্ধ পান কর্মকর্তারা। এ সময় কক্ষ থেকে গাঁজার আলামত, সিগারেট, গাঁজা কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট কাঁচি এবং রোলিং পেপার উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়ামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা সবাই গণিত বিভাগের সিয়াম ভাইয়ের রুমে গল্প করতে গিয়েছিলাম। আমরা গাঁজা সেবন করিনি।”
মাহাতাব টাওয়ারের ম্যানেজার জাকির বলেন, “আমি রুমের বাইরে ছিলাম। ভেতর থেকে ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধ পাচ্ছিলাম। পরে রুম থেকে আনুমানিক আটজনকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “এর আগেও এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। এবার হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”