
১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন।
দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান সাফিকুর। তবে একই মামলার আসামি ও বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শেষে সাফিকুর রহমান ও সুফিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি দেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া তাদের জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে তাদের বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়।
সেখানে সাফিকুর রহমান দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। অপরদিকে সুফিয়া বেগম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর একই মামলায় শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রোবেল মিয়া সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুরের পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বিথী বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় শিশুকে দেখাশোনার জন্য একটি ছোট মেয়ে প্রয়োজন—এ তথ্য বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর হোটেলকর্মী গোলাম মোস্তফাকে জানান। পরে মোস্তফা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আসামিরা জানান, যাকে রাখা হবে তার বিয়েসহ সব খরচ বহন করবেন। এতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোস্তফা তার মেয়ে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন।
সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোস্তফা মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর আসামিরা আর মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ—তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসা থেকে সাথী নামের এক ব্যক্তি মোহনাকে গোলাম মোস্তফার কাছে বুঝিয়ে দেন।
মোস্তফা তখন দেখতে পান, মোহনাকে দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে। সে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জানতে চাইলে সাথী সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে মোহনাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান, বিথী এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাকে মারধর করেন। এমনকি খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি হোটেলকর্মী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।