
যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউর মেরামতকাজ বিকেলের মধ্যে শেষ হবে। এরপর গ্যাস সঞ্চালন শুরু হলে ধীরে ধীরে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ (প্রেশার) বৃদ্ধি পাবে এবং বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন লাগবে। এরপর এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার আগের মতোই পরিস্থিতি ফিরে আসবে।”
গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের ঘাটতি থাকলে শুধু গ্রাহক নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রও গ্যাস পায় না। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সেবা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহক যাচাইয়ের জন্য বিল নিয়ে আসেন না। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা গেছে, ওই বাসায় দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি), একটি ফ্রিজ, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, “এতগুলো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করার পরও ৭ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিলকে অস্বাভাবিক বলা যায় না। পৃথিবীর কোথাও এত কম খরচে এতগুলো যন্ত্র চালানো সম্ভব নয় বলে আমার মনে হয়।”
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল নিয়মিত বৈঠক। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।
ভারত থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে তিনি জানান, বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও বেশি ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি দাবি করেন, “শেখ হাসিনা দেশকে ধ্বংস করে গেছেন এবং দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।”