
১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে সাধারণত প্রায় এক মাস পরিবারের রান্না চলত খাগড়াছড়ি সদরের কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দা মুফতি মোহাম্মদের। তবে সম্প্রতি একই ওজনের একটি সিলিন্ডার কিনে মাত্র দুই সপ্তাহেই তা শেষ হয়ে যায়। চুলা না জ্বললেও সিলিন্ডারের ভেতরে ভারী তরল পদার্থের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন, গ্যাসের সঙ্গে পানি মিশিয়ে সিলিন্ডারটি তাঁর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিনি জেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ জানান।
ভুক্তভোগীর এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আজ শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পানি মেশানোর প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এবং অনুমোদনহীনভাবে সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে দোকান দুটিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডিত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকার ‘সিকদার এন্টারপ্রাইজ’ ও খাগড়াছড়ি বাজারের ‘জননী ট্রেডার্স’।
ভুক্তভোগী মুফতি মোহাম্মদ জানান, তিনি নিয়মিত সিকদার এন্টারপ্রাইজ থেকে একটি বেসরকারি কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার কেনেন। সিলিন্ডারে পানি থাকার বিষয়টি দোকানমালিককে জানানো হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, তিনি নিজে এগুলো তৈরি করেন না, বরং ‘জননী ট্রেডার্স’ থেকে সিলিন্ডার কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন। পানি মেশানো হয়ে থাকলে সে বিষয়ে জননী ট্রেডার্সই বলতে পারবে। এরপর কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী গ্রাহক জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে দোকান দুটিতে থাকা এলপিজি সিলিন্ডার ওজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে সিলিন্ডারে পানি থাকার প্রাথমিক সত্যতা মেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "অভিযানে পানি মিশিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তা ছাড়া দোকান দুটি কোনো বৈধ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে আসছিল। এই অপরাধে সিকদার এন্টারপ্রাইজকে ৫ হাজার এবং জননী ট্রেডার্সকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
এই জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. ছিদ্দিক হোসেন বলেন, "কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডার থেকে আসল গ্যাস চুরি করে ওজন ঠিক রাখতে ভেতরে পানি মিশিয়ে বাজারে ছেড়ে দেয়। এ ধরনের ওজনের কারচুপির অভিযোগ আমরা প্রায়ই পাচ্ছি।"
তিনি গ্রাহকদের সতর্ক করে কৌশলটি বুঝিয়ে বলেন, "এলপিজি গ্যাস পানির চেয়ে হালকা হওয়ায় পানি সিলিন্ডারের একদম নিচের অংশে জমা থাকে আর গ্যাস থাকে ওপরে। ফলে ওপরে থাকা আসল এলপিজিটুকু শেষ হয়ে গেলেই আর চুলা জ্বলে না, কিন্তু ভেতরে থাকা পানির কারণে সিলিন্ডারটি অনেক ভারী মনে হয়। এর ফলে গ্রাহকেরা একদিকে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে কম সময়ের মধ্যে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।"