
ব্যস্ত জীবনযাপন, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত রুটিনের কারণে অনেকেরই রাতে ভালো ঘুম হয় না। ঘুমের জন্য নিয়মিত জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পাশাপাশি রাতের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ কিছু খাবার ঘুমানোর আগে খেলে হজমের সমস্যা, অস্বস্তি বা অতিরিক্ত সজাগ থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জেনে নেওয়া যাক, রাতে কোন সাত ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা ভালো—
১. ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ও পানীয়
কফি, চা, এনার্জি ড্রিংক, কোলা ও চকলেটের মতো খাবার ও পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে। এটি মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে পারে এবং ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ অনেকের রাতের ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে।
২. অ্যালকোহল
অ্যালকোহল খেলে শুরুতে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হলেও এটি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. ঝাল ও অতিরিক্ত মশলাদার খাবার
রাতে বেশি ঝাল বা মশলাদার খাবার খেলে কারও কারও বুকজ্বালা, গ্যাস কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে। শোয়ার কাছাকাছি সময়ে এসব খাবার খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
৪. ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
ভাজা ও বেশি চর্বিযুক্ত খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। রাতে এ ধরনের খাবার বেশি খেলে পেট ভার, অস্বস্তি বা বুকজ্বালার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে তুলনামূলক হালকা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
৫. অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
প্রোটিন শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে বড় পরিমাণে ভারী ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে হজমে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাবার হজম হতে সময় লাগে, সেগুলো রাতে বেশি না খাওয়াই ভালো।
৬. অ্যাসিডিক বা সাইট্রাসজাতীয় ফল
কমলা, লেবু, গ্রেপফ্রুটের মতো সাইট্রাস ফল কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়াতে পারে। রাতে এ ধরনের সমস্যা থাকলে ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে সাইট্রাসজাতীয় ফল না খাওয়াই ভালো।
৭. অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, মিষ্টি পানীয়সহ অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রাতে খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং কিছু মানুষের ঘুমের মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাতে কী খাবেন?
ঘুমের আগে খুব ভারী খাবারের পরিবর্তে পরিমাণমতো ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শোয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। তবে কোন খাবারে ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, তা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে শুধু খাবার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।