
তিনজন প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হওয়ার পর অবশেষে নতুন সভাপতি পেল দেশের ঐতিহ্যবাহী ও অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ‘দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিসিসিআই)। চেম্বারটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সি কম গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের চেম্বার কার্যালয়ে নবনির্বাচিত পরিচালকদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সাথে নতুন পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসাইন চৌধুরী এবং সহসভাপতি হয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউল আলম স্বপন।
এর আগে গত শনিবার (২৩ মে) প্রায় এক যুগ পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সাবেক সহসভাপতি আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের’ প্রার্থীরা পূর্ণ প্যানেলে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেন।
চেম্বার নির্বাচন বোর্ডের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আজকের সভায় টাউন অ্যাসোসিয়েশন ট্রেড গ্রুপ থেকে মোহাম্মদ আমিরুল হক সভাপতি, সাধারণ বিভাগ থেকে আমজাদ হোসাইন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং সহযোগী বিভাগ থেকে মশিউল আলম সহসভাপতি নির্বাচিত হন। নবনির্বাচিত সভাপতি আমিরুল হক এর আগে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
দীর্ঘদিন পর সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অর্ডিনারি (সাধারণ) গ্রুপে নির্বাচিত ১২ জন হলেন— কামাল মোস্তফা চৌধুরী, এএসএম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, আমান উল্লা আল ছগির, মো. গোলাম সরওয়ার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও শহীদুল আলম।
অ্যাসোসিয়েট (সহযোগী) গ্রুপে নির্বাচিত ৬ জন হলেন— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মশিউল আলম, সরোয়ার আলম খান, মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম ও মো. সেলিম নুর। এছাড়া ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনে সমান সংখ্যক প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন যথাক্রমে— মোহাম্মদ আমিরুল হক, এসএম সাইফুল আলম, মোহাম্মদ আকতার পারভেজ এবং মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও আফসার হাসান চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারে কোনো প্রতিদ্বন্দিতা ছাড়া নেতৃত্ব নির্বাচন হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চেম্বারের তৎকালীন পুরো পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগ করে। এরপর সরকার কর্তৃক তিন দফায় তিনজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। নানা আইনি জটিলতা ও রিট আবেদনের কারণে নির্বাচন একাধিকবার পিছিয়ে গেলেও অবশেষে দীর্ঘ পৌনে দুই বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পেল এই বাণিজ্য সংগঠনটি।
তবে এবারের নির্বাচনে মোট ৫৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের আগের দিন শুক্রবার (২২ মে) ‘স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা’ এবং সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচনের দাবিতে সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ব্যালট থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না হওয়ায় শনিবারের নির্বাচনে অর্ডিনারি বিভাগে ৪৬.০৬% এবং অ্যাসোসিয়েট বিভাগে ৩১.৯৮% ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।