
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরির মামলার এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশি মারধরের কারণেই তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় চুরির মামলায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে থানার হাজতে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শতাধিক নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ অন্তত ছয়জন আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির অভিযোগ করেন, বিনা কারণে তাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ মারধর করেছে। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, ‘চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাজতে থাকাকালে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার রিয়াজের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসারও মামলা রয়েছে। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে রিয়াজকে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করতে দেখা গেছে। হামলায় পুলিশের এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।