
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর অচল হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টানা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনের কর্মসূচি স্থগিতের পর দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই কর্মসূচির কথা জানান সংগঠনের নেতারা। তাদের ঘোষণার ফলে বহির্নোঙরসহ বন্দরের সব ধরনের অপারেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতি এবং আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে পণ্য সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ন কবীর ও সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন জানান, গত বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে দাবিগুলো নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো বাস্তব অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার এবং বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা। তাদের অভিযোগ, বন্দর চেয়ারম্যানের ভূমিকার কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।
৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের শুরুতে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরে তা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার চট্টগ্রাম বন্দর সফরের পর পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্দোলন সাময়িকভাবে দুই দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।
তবে স্থগিতকালীন সময়ে ১৬ জন কর্মচারীকে অন্য বন্দরে বদলি করা এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে জানান সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। তারা জানান, আগের কর্মবিরতিতে বহির্নোঙরের কার্যক্রম চললেও রোববারের ধর্মঘটে বন্দর এলাকার ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯১ শতাংশ সম্পন্ন হয়। টানা অচলাবস্থার প্রভাবে ইতোমধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বন্দরনির্ভর ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আমদানিকৃত পণ্য সময়মতো খালাস না হলে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পোশাক খাতসহ রপ্তানি বাণিজ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর সমাধান নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।