
লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও গোপনে নির্বাচন আয়োজনের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার বাদী কলেজটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান। তিনি বর্তমান গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন গভর্নিং বডির নির্বাচনেও তিনি শিক্ষক প্রতিনিধি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) লক্ষ্মীপুর যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. শাহাদাত হোসেন।
আদালতে দাখিল করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, কোনো ধরনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ছাড়াই গত ১ এপ্রিল শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল ওই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদনের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে পরবর্তীতে আবার ১১ মে ‘শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক পদে নির্বাচনী তফসিল-২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। ওই তফসিলে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তারিখ আগামী ২০ মে নির্ধারণ করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, একই পদের নির্বাচন একদিকে সম্পন্ন দেখানো এবং অন্যদিকে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করায় পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, বৈধ প্রার্থী তালিকায় এমন একজন শিক্ষককে রাখা হয়েছে, যার চাকরির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি রয়েছে। অথচ গভর্নিং বডির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় তিনি পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন বলে দাবি করেন বাদী।
বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ১২ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো চিঠি এবং ১১ মে প্রকাশিত নির্বাচনী তফসিলকে ‘ভুয়া, বেআইনি ও অকার্যকর’ ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ মে ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মো. ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ মনির হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।