
ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ওই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, হামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জনস্বাস্থ্য ও গবেষণার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের শতাব্দী পুরোনো একটি স্তম্ভে হামলা।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘এটি মৌলিক মানবিক মূল্যবোধের ওপর একটি বর্বর আক্রমণ।’
এদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকান-ইসরায়েলি আগ্রাসীরা ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলা চালিয়েছে, যা ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীনতম ও মর্যাদাপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা কেন্দ্র।’
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯২০ সালে পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব প্যারিস ও ইরান সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই হামলাকে তিনি ‘হৃদয়বিদারক, নিষ্ঠুর, ঘৃণ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দেন।
তবে হামলার ধরন, সম্ভাব্য হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।