
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সারাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব জীবিকা গঠনের লক্ষ্যে নতুন করে ১৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ডের ৬৫তম সভায়’ এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাট, নওগাঁ, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় ‘প্রাকৃতিক সম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ পানির মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল পরিবেশ গঠন’ উদ্যোগ। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াল নদী ও মির্জা মাহমুদ খাল পুনঃখনন এবং নদীপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যও একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। একই সঙ্গে মুন্সীগঞ্জে রজতরেখা নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আলাই নদী ও যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের চরশাহী ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলায় টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের প্রথম ধাপের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া বাগেরহাট জেলার তিনটি উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রকল্পও বাস্তবায়িত হবে।
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকায় সোলার প্যানেলচালিত পাম্প হাউজ স্থাপন করে নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই জেলায় রিভার্স ওসমোসিস (RO) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য আরেকটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় জনগণের জন্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প জীবিকা সহায়তার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং নোয়াখালীর চাটখিল পৌর এলাকায় খাল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগও এই অনুমোদনের অংশ।
এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার প্রতিটি উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য পৃথক তিনটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জন্য সরাসরি উপকার বয়ে আনবে।
সভায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা।” তিনি আরও বলেন, “অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয়, পার্বত্য ও খরা-প্রবণ অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।”
সভায় কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মো. ওয়ালি-উল-হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।