
শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করাই হলো জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠ্যবিষয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতকে আধুনিকায়ন ও সময়োপযোগী করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং পর্যায়ক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থী (বালক ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
তিনি জানান, এ বছর সারাদেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিসর বিবেচনায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
তারেক রহমান বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে দেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ করে ফুটবলে সাফল্য অর্জন করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে।’ পাশাপাশি তিনি টুর্নামেন্টটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।