
রাশিয়া-ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। তবে এ উদ্যোগে সম্মতির ক্ষেত্রে মস্কোর শর্ত হলো—সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবটি ‘খুব চমৎকার’। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে শুধু এই উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। তেলবাহী জাহাজসহ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপদে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেসকভ বলেন, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কিয়েভ সরকার এখনো কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো দুই দেশই জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি তেলের পাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই সময়ে শহরের অন্য একটি এলাকায় একটি গুদামেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ক্লিৎসকো জানান, হামলায় শহরের একটি তেলের পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় একটি গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শীও কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের তেলের পাম্পগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। গত কয়েক মাসে দেশটি প্রায় ৩০০টি তেলের পাম্পে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলার বেশির ভাগই ইউক্রেনের শহরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় হয়েছে।
ইউক্রেন এর আগেও অভিযোগ করেছে, দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করতেই তেল ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।
সূত্র: রয়টার্স