
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাসে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর মধ্যেই তিন দফায় ওই অঞ্চলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১০ আগস্ট শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নতুন সরকার গঠিত হলেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে না পারায় স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় প্রবেশিকা পরীক্ষাও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে ওই অঞ্চলে আংশিকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরের পুরো ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশে অবশ্য একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা রয়েছে। ৪৫ আসনের আইনসভায় ভারতে বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
এই আসনগুলো বাতিলের দাবিতে ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএসি) আন্দোলন শুরু করলে ৫ জুন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর শুরু হওয়া সহিংসতায় সাতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিক্ষোভে উত্তাল কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। পরে বাকি আসনগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন আঞ্চলিক সরকার গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: আল জ