
লেবানন থেকে দ্রুত সেনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক চাপ ও খোদ ওয়াশিংটনের কড়া নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই এক চরম উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব। দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হিব্রু দৈনিক ‘মারিভ’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মূলত দক্ষিণ লেবানন অঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের কড়া নজরদারিতে রাখতেই এই স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এই সামরিক চৌকিগুলো ঠিক কোন কোন পয়েন্টে স্থাপন করা হচ্ছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে বিশদভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়
লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহকে নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে গত ২ মার্চ থেকে দেশটির ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ৪ হাজার ১৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ হাজার ২২৪ জন। এছাড়া ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি মানুষ।
এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এমনই এক শান্তি সংলাপ গত বুধবার ইতালির রাজধানী রোমে শেষ হয়েছে। ওই বৈঠকে দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট দুটি অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তির একটি ফ্রেমওয়ার্ক এবং এর শর্তাবলি নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে।
২৬ জুনের চুক্তি ও ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্ব
এর আগে গত ২৬ জুন মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি খসড়া শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট’ প্রকল্প হিসেবে লেবাননের দুটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে আইডিএফের ক্ষুদ্র কিছু সেনা দল সাময়িকভাবে অবস্থান করতে পারবে। প্রথমে অন্যান্য স্থান থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং সবশেষে এই ‘পাইলট’ জোন থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলের এই লাগাতার সামরিক আগ্রাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চরম অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নিলেও, নেতানিয়াহু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চান। এই দ্বন্দ্বে ট্রাম্প এর আগে নেতানিয়াহুকে বেশ কয়েকবার কড়া ভাষায় ধমক ও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের সেই সমস্ত কঠোর চাপ ও হুঁশিয়ারিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লেবাননের মাটিতে নিজেদের স্থায়ী অবস্থান শক্ত করার তোড়জোড় চালাচ্ছে ইসরায়েল।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।