ড. ইউনুস সরকারের আমলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরনের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ড. সাহাবুদ্দিন লাল্টু।
তিনি বলেন, যোগাযোগ ও এনার্জি মন্ত্রণালয় তার মধ্যে দুটি। এ দুটি যেকোন শিল্প কলখানার সাথে জড়িত। এতে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ সামান্য একটা অনুমতির জন্য তৃণমূল থেকে উপদেষ্টার টেবিল পর্যন্ত ফাইল আসতে হয়। এতে মাসের পর মাস কলকারখানা বন্ধ থাকতে হয়ে। কর্মচারীরা বেকার হয়ে যায়।
ড. লাল্টু বলেন, উপদেষ্টা ও অন্যান্য পদস্থ ব্যক্তিরা তো ঠিকই মাস শেষ হলে বেতন নিয়ে বাসায় গিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে পেট ভরে খেয়ে ঘুমান। কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকাখানার বেকার হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর জীবন কেমন করে চলে, তার খবর কি তারা রাখেন?
তিনি অভিযোগ করেন, অযথাই টেবিলের সংখ্যা বাড়িয়ে টেবিলে বসা লোকদের টাকা খাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এতে মানুষের সময় বেশী লাগছে। তারা বসে বসে ঘুষ খাচ্ছেন। আর মানুষকে ঘুরাচ্ছেন ক্ষমতা দেখাতে। একজন কর্মকর্তা মিটিংয়ে চলে গেলে সেই টেবিলের কাজ আর কেউ ঐদিন করতে পারেন না। কোন রকমে সপ্তাহের ৫ দিন চলে যায়। তারপর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে দুই দিন। তাছাড়া এই বন্ধ সেই বন্ধ তো থাকেই। এসব কারণে বাংলাদেশে কেউ কলকারখানা বানাতে চায় না। সবাই টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়।
সাহাবুদ্দিন লাল্টু বলেন, পাশ্চাত্যে কোন একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সরকার পাগলের মত ছুটে এসে বলে, “How can I help you?” আর বাংলাদেশের সরকারী লোকেরা বসে থাকে কেমন করে কাজ আটকে রেখে ঘুষ খাবে। এভাবে ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশ চলতে পারে না।
তিনি জানান, আমরা বিষয়গুলো বুঝি। সে পরিমান পড়ালেখাও আছে। কিন্তু দেশের জন্য কিছু করতে পারি না। কারণ বিগত ৫৫ বছরের অল্প একটু সময় বাদ দিয়ে অযোগ্য আর অল্প শিক্ষিত মানুষেরা ক্ষমতায় ছিলো। তারা নিজেরাই কিছু বুঝেন না। সূতরাং পরিবর্তন আর কি আনবেন?
ড. সাহাবুদ্দিন লাল্টু বলেন, বিশ্ব এখন চলে প্রাগমাটিজমের ধারণার উপর। এর মানে হলো তোমার চলমান নিয়ম সব ভেঙে ফেলো, যদি তা তোমার জনগণের জীবনকে থামিয়ে দেয়। তাই দেশে এমন কোন নিয়ম থাকা উচিত নয়, যাতে চালু কলকারখানা মাসের পর মাস বন্ধ থাকে। কর্মচারীরা বেকার হয়ে যায়। একটি কর্মসংস্থান বানানো খুবই কঠিন। সূতরাং তাকে ধ্বংস করার সহজ কোন পথ খোলা থাকা উচিত নয়।