
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ভোটারদের ওপর নির্বাচনের পর হামলা ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে ডাকসু, জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর নেতারা সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিবাদ জানান এবং প্রতিটি হামলা ও খুনের বিচার দাবি করেন।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের সহিংসতা ঘটছে। একপক্ষে পরাজিত বিএনপি প্রার্থীরা হামলা চালাচ্ছে অন্য প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর। অন্যদিকে, যেখানে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলার শিকার হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, এই সহিংসতার ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফরহাদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জোটনেতাদের সতর্ক করে বলেন, “প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও আক্রমণের রাজনীতি পুনরায় চালু হবে না।”
ফরহাদ আরও বলেন, “আমরা নতুন কোনো সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই না। জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, যা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমকে দেওয়া হবে।
সাদিক কায়েম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতা ও সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি হুমকি দেয়, আমাদের জানাবেন। আমরা দেশের আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”