
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) একাধিক নেতার সামাজিকমাধ্যম মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীকে ঘিরে করা মন্তব্যগুলোকে ‘অবমাননাকর’ ও ‘অসৌজন্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে সামাজিকমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পাকিস্তানি নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ+পাকিস্তান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি+পিকিং ইউনিভার্সিটি’। ওই পোস্ট ঘিরে করা তিনটি আলাদা মন্তব্যের স্ক্রিনশট পরে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুতই ভাইরাল হয়।
ভাইরাল হওয়া মন্তব্যগুলোর মধ্যে ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য তাজিনুর রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুলহাস ইসলাম এবং রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার। মন্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
ডাকসুর আরেক কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা স্ক্রিনশট শেয়ার করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের এমন মন্তব্য নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এদিকে সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাওহিদা সুলতানা বলেন, নেতৃত্বের আসনে থাকা ব্যক্তিদের আচরণেই নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়, যা উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল মন্তব্য করেন, এসব বক্তব্য নারী সম্পর্কে একটি বিকৃত মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়, যা সংগঠিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।
বিতর্কের মুখে পড়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য তাজিনুর রহমান দাবি করেন, তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক অভিব্যক্তি, তবে শব্দচয়নের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
জুলহাস ইসলাম বলেন, মন্তব্যটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে করা হলেও নেতৃত্বের জায়গা থেকে এটি অনুচিত হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রনেতাদের আচরণ, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।