
ডিজিটাল সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছিল স্মার্ট আইডি কার্ড ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে সেই কার্ড এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের আরেক নাম। নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও মাসের পর মাস আইডি কার্ডের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেককে। আবার কেউ কেউ একই সঙ্গে পাচ্ছেন দুইটি করে কার্ড। প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা আর কারিগরি জটিলতায় পুরো প্রকল্প নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আইডি কার্ডের জন্য ১০০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করার পরও অনেকেই এখনো কার্ড হাতে পাননি। ফলে বাসে যাতায়াত থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে পরিচয় নিশ্চিত করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্মার্ট আইডি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি কার্ডের মাধ্যমেই হল, লাইব্রেরি ও চিকিৎসাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা। তবে বাস্তবে সেই সুবিধা এখনো চালু হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে হল কার্ড ও লাইব্রেরি কার্ডও তৈরি করতে হচ্ছে। এতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল পাওয়ার বদলে বাড়ছে অতিরিক্ত ঝামেলা।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব বলেন, সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে আবেদন করেও তিনি এখনো আইডি কার্ড পাননি। এ বিষয়ে একাধিকবার আইসিটি সেলে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। আইডি কার্ড না থাকায় ক্যাম্পাসে যাতায়াতের সময় প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে একই শিক্ষার্থীর কাছে দুইটি আইডি কার্ড চলে আসার ঘটনাও সামনে এসেছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী সাহেব আহমেদ বলেন, প্রথমবার অনলাইনে আবেদন করার সময় সাবমিট হয়েছে কি না বুঝতে না পেরে তিনি আবার আবেদন করেছিলেন। পরে সম্ভবত দুইটি আবেদনই গ্রহণ হওয়ায় দুইটি কার্ড ইস্যু হয়েছে।
আইডি কার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ই-বিজনেস সাব সলিউশন লিমিটেডের প্রতিনিধি নাজমুল শাহাদাত বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর আবেদনে তথ্যগত ভুল ছিল। কারও রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্যজনের সঙ্গে মিলে গেছে। বিষয়গুলো সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে যাদের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তাদের কার্ড এখনো আটকে আছে। তিনি জানান, তথ্য সংশোধনের কারণে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী একাধিক কার্ড পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের কার্ড প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। পরে আবেদন করা শিক্ষার্থীরা কার্ড পাননি। তবে একই শিক্ষার্থীর একাধিক আইডি কার্ড পাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, এমন হওয়ার যৌক্তিক কারণও নেই।