
হঠাৎ তীব্র জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে বরগুনার পাথরঘাটার ব্যস্ততম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসির কার্যক্রম। ডিজেল না পেয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না শতাধিক ট্রলার, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
গত তিন থেকে চার দিন ধরে চলা এই সংকটে স্বাভাবিক মাছ ধরার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত জেলেরা সাগর থেকে মাছ এনে বিক্রি করেন এবং পরে প্রয়োজনীয় রসদ, বরফ ও জ্বালানি সংগ্রহ করে আবার ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে যান। কিন্তু আকস্মিক ডিজেল সংকটে সেই চক্র এখন ভেঙে পড়েছে।
অনেক মাঝি মাছ বিক্রির পরও জ্বালানি না পেয়ে ট্রলার ঘাটেই আটকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলেদের অভিযোগ, বাজারে কিছু ব্যবসায়ীর কাছে ডিজেল থাকলেও তা প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে না; বরং অধিক মুনাফার আশায় মজুত রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রলার মাঝি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সাগরে গিয়ে পরিবার চালাই। তিন-চার দিন ধরে ডিজেল পাই না। কেউ গোপনে বেশি টাকা দিলে দেয়, কিন্তু তেল না পেলে তো সাগরে যেতে পারব না।’
আরেক জেলে আবদুল মালেক বলেন, ‘দিন এনে দিন খাই। ট্রলার যদি সাগরে না যায়, আয় নেই। তিন দিন ধরে বসে আছি। ট্রলারে বরফ, জাল সব প্রস্তুত, শুধু ডিজেলের জন্য যেতে পারছি না। এই অবস্থা চললে পরিবার না খেয়ে থাকবে।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোস্তফা জানান, ‘পাথরঘাটার বেশ কয়েকটি তেল দোকানে পর্যাপ্ত ডিজেল থাকা সত্তেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় তেল গোপনে মজুত করে রেখেছে। ফলে জেলেরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। অনেক ট্রলার সাগরে যেতে না পেরে ঘাটে নোঙর করছে।’
অন্যদিকে তেল ব্যবসায়ী ফারুক হাওলাদার জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপো থেকে কোটা ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হয়। “প্রতি সপ্তাহে পাথরঘাটায় ২–২.৫ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকে, কিন্তু বর্তমানে পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে মোট মাত্র পাঁচ হাজার লিটার সরবরাহ হচ্ছে। এত কম সরবরাহে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।’
বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘জ্বালানি তেল মজুত করে কেউ যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য ট্রলার ঘাটে নোঙর করে আছে। কেউ ট্রলারে বসে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ জাল মেরামতে ব্যস্ত—তবে সবার চোখে অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।