
ঢাকার হাইকোর্ট মাজারের পাশে দুটি ড্রামের মধ্যে পাওয়া ২৬ টুকরা মরদেহের আশরাফুল হক শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া আল মাহফুজ মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে মরদেহকে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৩টায় অ্যাম্বুলেন্সে আসে আশরাফুলের খণ্ডিত দেহ। ২৬ টুকরা মরদেহ দেখার পর স্বজনরা এবং স্থানীয়রা আবেগে ভেঙে পড়েন।
পূর্বের দিন, শুক্রবার আশরাফুলের বড় বোন বাদী হয়ে বন্ধু জারেজসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে প্রধান আসামি জারেজ ও তার প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করা হয়।
শুক্রবার রাতের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব-৩ এই তথ্য নিশ্চিত করে।
ডিবি জানিয়েছে, রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুলকে হত্যার ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জারেজুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, পরকিয়ার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
আশরাফুলের মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। বাথরুমে মরদেহকে টুকরো টুকরো করা হয় এবং পরে হাইকোর্ট মাজারের পাশে ফেলে রাখা হয়।
গ্রেপ্তার জারেজের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে জাপান যাওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা ধার চেয়েছিলেন আশরাফুলের কাছ থেকে। টাকা দেওয়ার জন্যই আশরাফুল তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) আশরাফুল প্রবাসী বন্ধু জারেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার হাইকোর্ট মাজারের পাশে দুটি নীল ড্রামে তার ২৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে শনাক্ত করা হয় আশরাফুলকে।