
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় রেলসেবা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ট্রেনটি পুনরায় চালুর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখনো ট্রেন চলাচল শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস এবং নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা মিতালী এক্সপ্রেসসহ একাধিক আন্তঃদেশীয় রেলসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব ট্রেনের চলাচল পুনরায় শুরু হয়নি।
সম্প্রতি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে আগের মতো সপ্তাহে পাঁচ দিন ট্রেনটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্ট বিভাগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, অভিবাসন, শুল্ক ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুই দেশের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটনসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা সেবা পুনরায় চালু করেছে ভারত। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার ধারাবাহিকতায় আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগও পুনরায় চালু হলে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পারিবারিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেস দীর্ঘদিন ধরে একটি সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে ট্রেনটি পুনরায় চালু হলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেল বিশেষজ্ঞ তপন কুণ্ডু বলেন, “মৈত্রী এক্সপ্রেস শুধু একটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন নয়, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করে ট্রেনটি পুনরায় চালু হলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও কার্যকর হবে।”