
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায় বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার দুপুরে আহত রাহুল আহমেদ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, উপজেলার সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামের জসীমউদ্দিন এলাকায় বিচার-সালিস করে থাকেন। একই এলাকার হারকিউলিসের ছেলে সেজান বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব বিষয়ে শাসন করায় শালিসকারী জসীমউদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
গত শনিবার সকালে জসীমউদ্দিনের মুদি দোকানের সামনে সেজানের নেতৃত্বে রাতুল মিয়া, সজিব মিয়া, মাছুম মিয়া, মাসুদ রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন দেশীয় অস্ত্র, দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, সুইস গিয়ার চাকু, লোহার রড ও এসএস পাইপ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এ সময় তাদের গালাগালি করতে নিষেধ করলে একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। এ সময় দোকানে থাকা মালপত্র ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জসীমউদ্দিনকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলে রাহুল আহমেদকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত জসীমউদ্দিন বলেন, সেজানকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণে তার লোকজন তাকে ও তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করেছে। তারা দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি হামলার শিকার হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ অপরাধের প্রতিবাদ করবে না।
অভিযুক্ত সেজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।