
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৭ লাখ টাকার নির্বাচনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন। তবে এর মধ্যে মাত্র এক লাখ টাকা নিজের পকেট থেকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় পাটওয়ারী জানিয়েছেন, বাকি ২৬ লাখ টাকা তিনি ‘স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান’ এবং ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ এর মাধ্যমে সংগ্রহের আশা করছেন।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের নির্বাচনি খরচের উৎস জানানো বাধ্যতামূলক। ভোট শেষে প্রত্যেক প্রার্থীকে খরচের হিসাবও জানাতে হয়। ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৮ জন। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৭ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। পাটওয়ারী এ সীমার সর্বাধিক ব্যয়ই সম্ভাব্য খরচ হিসেবে দেখিয়েছেন।
হলফনামায় পাটওয়ারী তার পেশা ‘মার্কেটিং কনসালট্যান্ট’ উল্লেখ করেছেন। আগে চাকরিতে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছে। বার্ষিক আয় হিসেবে পরামর্শক হিসেবে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং চাকরি থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা দেখিয়েছেন। মোট আয় ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
নগদ টাকা হিসেবে তার হাতে ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। তিনটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যার মধ্যে একটিতে ৮ হাজার ২৭৫ টাকা, আরেকটিতে ৯ হাজার ৭১২ টাকা, এবং তৃতীয়টি শূন্য। এছাড়া নিজস্ব ১০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতু রয়েছে। মোট সম্পদ ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বা স্ত্রীর নামে কোনো জমি, ফ্ল্যাট, ভবন বা বাণিজ্যিক স্থাবর সম্পত্তি নেই। ৩০ বছর বয়সী পাটওয়ারী প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেওয়া আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩ টাকা এবং মোট সম্পদ ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে তিনি ৫ হাজার টাকা কর দিয়েছেন।
পাটওয়ারীর নামে কোনো চলমান মামলা নেই। পুরনো দুটি মামলায় তিনি খালাস পেয়ে গেছেন।
মোহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে লড়াই করছেন।