
ভিন্ন আদর্শ কিংবা ভিন্ন পোশাকের কারণে কোনো নারীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান অনলাইন বিদ্বেষ নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
ফেসবুকে বলিষ্ঠ বার্তা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ইসলাম কখনোই কাউকে অপমান বা হেয় করার অনুমতি দেয় না। তিনি মনে করেন, কোনো নারীর মতামত বা পোশাকের সাথে দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু সেই সূত্র ধরে তাকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক।
ফেসবুক পোস্টে তিনি সরাসরি বলেন, ‘ভিন্নমত, ভিন্নচিন্তা কিংবা ভিন্ন পোশাকের একজন নারীকে নিয়ে নোংরা মন্তব্য করা, গালাগালি করা বা অপমান করা কোনোভাবেই ইসলামের শিক্ষা হতে পারে না।’
সৌজন্য ও শালীনতার আহ্বান
মিতু তার লেখায় জোর দিয়ে বলেন যে, ধর্ম মানুষকে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়। কারো সমালোচনা করার অর্থ এই নয় যে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের লাগামহীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘একজনকে মন চাইল আর নোংরা কথা বলে দিলাম—বিষয়টাকে আমরা এত সহজ করে ফেললাম কিভাবে?’
ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে নারী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ডা. মিতুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই বক্তব্যকে সামাজিক শালীনতা বজায় রাখা এবং ধর্মীয় অপব্যাখ্যা রোধে একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে, এনসিপির এই শীর্ষ নেত্রী বরাবরই সামাজিক বিচার ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।