
নির্বাচন কাভার করতে সাংবাদিকদের কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত এ ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসিসহ (আরএফডি) অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চেয়েছিল কমিশন। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পিআইডি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
তিনি বলেন, কার্ডের আবেদন, বিতরণ ও গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের যে ধরনের জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়, তা দূর করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনা হবে। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থাটিতে পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হবে।
সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, অনলাইন বা অফলাইন—যে পদ্ধতিই চূড়ান্ত করা হোক, কার্ড পাওয়ার যোগ্য ও প্রাপ্য সব সাংবাদিককে এর আওতায় আনতে চায় কমিশন। কাউকে বাদ দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই।
তিনি বলেন, ‘এখানে মূল বিষয় হচ্ছে ব্যবস্থাপনাটা নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রণ করা নয়।’
ইসি সচিব জানান, সাংবাদিকদের কার্ড বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ এসেছে এবং এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুপারিশগুলো আরও সুনির্দিষ্ট ও পদ্ধতিগত করার জন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।