
নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুধিগণ্ডী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (১১ অক্টোবর) এ বন্যা আঘাত হানে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
নদীতীরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রোববার গভীর রাত পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যাচ্ছে। বন্যায় পাহাড়ি অঞ্চলের একাধিক ছোট গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী মহাসড়কের পাশের শহর আরুঘাটেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের আগাম সতর্কবার্তার কারণে সেখানকার বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পেরেছেন।
বন্যার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ
কাঠমান্ডুর কাছাকাছি অবস্থিত বুধিগণ্ডী নদী ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নদীটিতে আকস্মিক বন্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
বন্যার উৎস ও পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নদীতীরবর্তী জনবসতি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
আগের বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন বিপর্যয়
চলতি বছরের আগস্টে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ওই বন্যার পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে প্রায় ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
আগের দুর্যোগের ক্ষতি সামলে ওঠার মধ্যেই বুধিগণ্ডী নদীতে নতুন এই বন্যা নেপালের পাহাড়ি জনপদে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।