
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পরপরই সংবাদ সংগ্রহে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় ঘটনাস্থলে জড়ো হন বহু সাধারণ মানুষও।
সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। ব্যারিকেড অতিক্রম করে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে সংবাদকর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি গাড়িকে বঙ্গভবনে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হতে দেখা যায়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গভবনের সামনে উপস্থিত যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। উনি বের হন কি না, তাই দেখতে এসেছি। মতিঝিলে একটি কাজে এসেছিলাম, সেখান থেকে এখানে চলে এসেছি।’
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে অসমর্থ হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন তার অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরও তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।