
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস, যা নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন স্বজনরা। বাসটিতে চালক ও হেল্পারসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে শিশুসহ আটজন যাত্রী নিয়ে বাসটি যাত্রা শুরু করে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে সেটি নদীতে পড়ে যায়।
কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাই। ঈদের ছুটি কাটিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে পরিবারসহ ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন তিনি।
এছাড়া একই বাসে ছিলেন মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস)। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামে। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এই দুই পরিবারের মধ্যে আয়েশা, আরশান এবং আয়েশা বিন্তে গিয়াস এখনো নিখোঁজ বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
খোকসা থেকে বাসে ওঠেন আরও তিন যাত্রী, দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী এবং তাদের ছেলে ইসরাফিল (৩)। এর মধ্যে ইসরাফিলের কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে মুঠোফোনে নুরুজ্জামান বলেন, “বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করি। ছুটি এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যাই। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।”
গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, “বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিকে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনো পাইনি।”
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী বাস কাউন্টারের মাস্টার তন্বয় আহমেদ জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ছয়টি সিটে শিশুসহ আটজন যাত্রী নিয়ে বাসটি কুমারখালী থেকে ছেড়ে যায়। পরে খোকসা থেকে ৩ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন ওঠেন। চালক ও হেল্পারসহ ৪০ আসনের বাসটিতে মোট প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি জানান, ব্রেক ফেল করার কারণে বাসটি নদীতে পড়ে যায় এবং অনেক যাত্রীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ আটজন যাত্রী নিয়ে বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল, যাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। এদের মধ্যে তিনজন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।